কলসা গ্রামে মায়ের কবরে সমাহিত হলেন আজিজুর রহমান

মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়েছে ‘ছুটির ঘণ্টা’খ্যাত পরিচালক আজিজুর রহমানকে। আজ সোমবার সকালে এই পরিচালকের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে বগুড়ার সান্তাহার পৌঁছায়। সান্তাহার রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠে যখন হেলিকপ্টার পৌঁছায়, তখন ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা। মেয়ে আলিয়া রহমান বলেন, ছোটবেলায় এই মাঠে খেলাধুলা করতেন তাঁর বাবা আজিজুর রহমান। হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয় সান্তাহার ঈদগা মাঠে। সেখানে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ কলসা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

আলিয়া রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাবাকে দেশের মানুষ কতটা ভালোবাসেন, তা আবার উপলব্ধি করলাম। বাবার মরদেহ গ্রামে আনার খবরে দূর–দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে এসেছেন। শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন। আমাদের আত্মীয়স্বজন অনেক। তাঁরা সবাই এসেছেন। বাবার ইচ্ছানুযায়ী শেষ পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরভাবে সমাপ্ত করতে পেরেছি। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’

এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে আজিজুর রহমানের মরদেহ কানাডা থেকে ঢাকায় আনা হয়। কানাডার স্থানীয় সময় ১৪ মার্চ সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘ছুটির ঘণ্টা’খ্যাত পরিচালক আজিজুর রহমান। মারা যাওয়ার পর টরন্টোর স্কারবোরোতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এই পরিচালকের প্রথম জানাজা হয়। ঢাকায় আনার পর আজিজুর রহমানের মরদেহ সরাসরি দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রশাসনিক ভবনের সামনের খোলা জায়গায় আজিজুর রহমানকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য একটি মঞ্চ আগে থেকে তৈরি ছিল। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাঁকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে আসেন। কেউ কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। চিত্রনায়ক বাপ্পারাজকে এফডিসিতে খুব একটা দেখা যায় না। তিনিও এসেছিলেন চিত্রনায়ক ছোট ভাই সম্রাটকে নিয়ে। আজিজুর রহমানকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন বরেণ্য গীতিকার, প্রযোজক ও পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

কলসা গ্রামে মায়ের কবরে সমাহিত হলেন আজিজুর রহমান

দীর্ঘদিন ধরে আজিজুর রহমান শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যের রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ এক বছর কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না। আজিজুর রহমান প্রায় এক যুগ ধরে স্ত্রীসহ কানাডায় তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গে থাকতেন।

আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রূপচান প্রামাণিক, মা আবেজান বেগম। তিনি স্থানীয় আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্শিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেছেন। অনেক সফল চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে এহতেশামের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘মৈমনসিংহ গীতিকার’ লোককথা নিয়ে ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে।

আজিজুর রহমান ৫৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মধুমালা’, ‘অপরাধ’, ‘পরিচয়’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’, ‘রঙিন রূপবান’, ‘রঙ্গিন কাঞ্চন মালা’, ‘আলিবাবা চল্লিশ চোর’, ‘মায়ের আঁচল’, ‘মেহমান’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘যন্তর মন্তর’, ‘মাটির ঘর’, ‘মহানগর’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘সোনার তরী’, ‘অনুভব’, ‘প্রতিদান’, ‘সাত বান্ধবী’, বস্তির রাণী’, ‘দিল’, ‘জমিদার বাড়ির মেয়ে’, ‘ঘর ভাঙা সংসার’, ‘কথা দাও’, ‘লজ্জা’ ও ‘সমাধান’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.