সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা থাকবেই তবুও কাজ চালিয়ে যেতে হবে

চাঁদপুরে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) চাঁদপুর জেলা কমিটির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন।

সুজন জেলা কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, মির্জা জাকির, লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্র ধর ও এ এইচ এম আহসান উল্ল্যাহ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, চাঁদপুর প্রেসসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত, দৈনিক প্রভাতী কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর পত্রিকার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ডালিম।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ লতিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফোকাস মোহনার সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ আলম, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ম্যানেজার সেলিম রেজা, সুজন জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল হক মিলন, দৈনিক ইলশেপাড়ের বার্তা সম্পাদক এস এম সোহেল, দৈনিক চাঁদপুরজমিনের বার্তা সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অনিক, চাঁদপুর প্রবাহের সিনিয়র রিপোর্টার কবির হোসেন মিজি, চাঁদপুর টিভির প্রতিনিধি শাওন পাটওয়ারী, ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এমন এক পদ্ধতিগত পেশাদার কাজ যা দীর্ঘ সময় যাবত গভীর অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে জনস্বার্থে কোন সত্য উদঘাটন করে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কিংবা গুরুতর কোনো অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বা মহলকে জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসনে বলেন, সাংবাদিকরা হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকের লেখনীর মাধ্যমে দেশের নাগরিক এবং সরকার সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পায়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা খবরের অনেক গভীরে গিয়ে সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সরকারের কাছে ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সরকার অনেক কিছু জানতে পারে।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্র নানা প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। তারপরও আপনাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে আগে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে যে, আপনি থেমে যাবেন কিনা। আপনি থেমে গেলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হবে না। ভয় পেলে আপনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারবেন না।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তারপরও আপনারা যখন জাতি এবং দেশের জন্য সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন, তাই সমস্যাকে পাশ কাটিয়েই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে। আপনারা নেগেটিভ নিউজের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডও তুলে ধরবেন- এই প্রত্যাশা রাখছি।

তথ্য কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার তথ্য অধিকার আইন করেছে। এই তথ্য অধিকার আইন হলো সরকারের ওপর জনগণের খবরদারি করা। এই সুযোগটি করে দিয়েছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনারা যদি সত্য এবং ন্যায়ের পথে থেকে তথ্য অনুসন্ধান করেন, তবে কেউ আপনাকে থামাতে পারবে না। অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.