চাঁদপুরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো জরুরি

চাঁদপুরে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির ফলে সেটি আবার বাড়ছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্যহার নিয়ন্ত্রণ ও এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখছে। নদী বিধৌত এ অঞ্চলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা প্রশ্নাতীত হলেও নানা কারণে তাদের দীর্ঘশ্বাসের বিষয়টিও বহুল আলোচিত।

জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর বিপুলসংখ্যক প্রবীণকে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ভাতা দেওয়ার কর্মসূচিতে। বেশিরভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় যা দুঃখজনক।

তারপরেও বলবো প্রবীণবান্ধব এ কর্মসূচি চালু রাখার পাশাপাশি এ ধরনের আরও কর্মসূচি নেওয়া দরকার। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। বর্তমানে বয়স্কভাতার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কাজেই অনিয়ম রোধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে গরিব মানুষকে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পদ্ধতিটি পরিবর্তন করে নগদ সহায়তার অংশ বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মানুষের কাছে সবচেয়ে কম খরচে নগদ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের কর্মসূচিতে জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করা সহজ হবে। এ জন্য দরকার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা। ইতোমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সুফলও মিলেছে।

চলতি বছর সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ১১ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিশ্বের ‘রোল মডেল’ হবে বাংলাদেশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্নীতির কারণে সরকারের জনমুখী অনেক প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, আর্থিক দুর্নীতি-এসব অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। কাজেই কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নেবে-এটাই কাম্য।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *