সার্বজনীন পেনশন চালু হলে জাতি উপকৃত হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল:
সর্বজনীন পেনশনের কথা জেনে অনেকের মনে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন তারা তো বটেই, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা নিয়োজিত তাদেরও এ ব্যাপারে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখি। গণমাধ্যমও পিছিয়ে নেই, তারাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এখন সূত্রপাত দেখার অপেক্ষায়। মানুষের আগ্রহ বেশি কর্মসূচিটি সরকারি বলে। সেবার মান যা-ই থাকুক না কেন এতে নিরাপত্তা থাকবে অন্তত এ ব্যাপারে মানুষ আশ্বস্ত। সরকারি চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছে ছুটে অনেক তরুণ ক্লান্তশ্রান্ত ও হতাশ।

বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানাদিতে যদি পেনশন প্রথা চালু হয় তাহলে ছোটাছুটি কমবে, মেধাবীদেরও আগ্রহ জন্মাবে এ খাতের প্রতি। তাতে বিদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য লোক আনতে হবে না। শোনা যায় ব্যক্তি খাতে বড় বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ চান না এমন পেনশন প্রথা চালু হোক। কর্মচারীদের মাসিক কিস্তির টাকা পরিশোধে তাদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে মুনাফা কমবে- এই বিবেচনাতেই হয়তো তারা এমন নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। আসলে তাদের ক্ষতি হবে না। নিরাপত্তাবোধ শ্রমিক-কর্মচারীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, তারা চাকরিতে থিতু হবেন, অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে দেবে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হবে। এতে নানান ভুলভ্রান্তি ও ফাঁকফোকর ধরা পড়বে ক্রমান্বয়ে। সেগুলো শুধরে নেয়া যাবে যদি শুরুটা করা যায়। সরকার দীর্ঘদিন হোমওয়ার্ক দ্বারা এর একটি কাঠামো তৈরি করে ফেলেছে ধরে নেয়া যায়, নয়তো এক বছরের ভেতর ব্যবস্থাটি চালুর কথা বলা হতো না। অনুরোধ করব প্রতিশ্রুত সময়ে স্কিমটি চালু করে দিতে। ভুলত্রুটি যা হবে তা সময় নির্দিষ্ট করবে, প্রতিকারও বেরিয়ে আসবে। আমাদের ব্যাংকগুলোর সাধারণ গ্রাহকদের পেনশন স্কিম পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।

‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ নামের যে কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই সেখানে সব দিক থেকে উপযুক্ত এমন ব্যক্তিদের বাছাই করে নিয়োগ দিতে হবে। তেমনটি না হলে বিশালাকায় এই কর্মসূচির প্রবাহমানতা বিনষ্ট হবে, জাতি ভোগান্তিতে পড়বে। দায়সারা গোছের কিছু করা মোটেও ঠিক হবে না। সর্বজনীন এই পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারও লাভবান হবে, উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থের জোগান পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.