সার্বজনীন পেনশন সময়োপযোগী উদ্যোগ

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েলশতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ সাত হাজার ৬৫২ জন। ৫৭ বছর বয়সে অবসর শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১৫ বছর অবসর জীবন সমাপ্ত হয়েছে এমন প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুনরায় পেনশন প্রাপ্তি শুরু হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা এখন পর্যন্ত অবসরজীবনের ১৫ বছর সমাপ্ত করতে পারেননি তাদের চরম আর্থিক কষ্টের বর্ণনা পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে। এরা ফেসবুকে একটি গ্রুপ গঠন করে প্রতিনিয়ত দৈন্য অবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার চেষ্টা করছেন। তাদের বিশ্বাস, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাদের অবসরজীবনের মেয়াদ ১৫ বছর থেকে কমিয়ে আট বছরে আনবেন এবং তাদের ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করবেন।
যারা ৫৯ বছর বয়সে অবসরে গেছেন তাদের পেনশন পুনর্বহাল সুবিধা পেতে হলে ৭৪ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দেশে গড় আয়ু ৭৩ বছর। তাই জীবনের বোনাস সময়কাল বেঁচে থাকার সুযোগ পেলেই কেবল তারা পেনশন পাওয়া শুরু করবেন। তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন যে, যদি শতভাগ পেনশন সমর্পণ না করে তারা পেনশন গ্রহণ করতেন, তা হলে তারা এই সময়ের ভেতর আরও অধিক পরিমাণে টাকা হাতে পেয়ে যেতেন। এ অবস্থায় আট বছরে পেনশন পুনর্বহাল করা হলে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বৃদ্ধনিবাসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অনেকে বলছেন। এ অবস্থায় কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অভিধা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সরকার এই অসহায় শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী মানুষদের আবেদনে সাড়া দিয়ে একটি মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। উল্লেখ্য, যারা সততার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, বাস্তবে সেই লোকগুলোই অধিক বিপদে আছেন। পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে প্রিয় দেশের মাটিতে একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার এই মানুষগুলোর নিশ্চয়ই আছে; প্রধানমন্ত্রীর এই অসহায় মানুষগুলোর শেষ জীবনে খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেবে। অবসরভোগী এই অসহায় মানুষরা রাষ্ট্রের অনুকূল সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.