করোনার টিকা না নিলে মৃত্যুঝুঁকি ১১ গুণ বেশি: মার্কিন সিডিসি

টিকা না নিলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসি। করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা ধরন’ টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেদ করতে পারলেও গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা অনেক। এদিকে পাঁচ থেকে ১১ বছরের শিশুকেও টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মাস থেকে তাদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হতে পারে। খবর সিবিসি নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

সিডিসির পরিচালক ডা. রোশেল ভলেনস্কি শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট। এতে দেখা গেছে, যারা টিকা নেননি, তাদের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাড়ে চারগুণ বেশি, হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা ১০ গুণ বেশি এবং মৃত্যুর শঙ্কা ১১ গুণ বেশি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ে তিনটি সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঞ্চলে পরিচালিত সিডিসির সমীক্ষায় দেখা যায়, ডেল্টা ধরনের বিস্তারের মধ্যে টিকার পূর্ণ ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে।

বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলে পূর্ণ ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু সমীক্ষায় টিকার পূর্ণ ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ। সিডিসি বলছে, সার্স-কোভ-২ ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা অব্যাহতভাবে কমে আসছে।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত সিডিসির আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার ঠেকাতে ভালো কার্যকারিতা দেখাচ্ছে টিকা। কিন্তু সিডিসির প্রকাশিত নতুন তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে আসছে।

পাঁচ থেকে ১১ বছরের শিশুকেও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন করোনার টিকার ক্ষেত্রে বয়স্ক লোকজনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রাপ্তবয়স্ক লোকজনের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে টিকা গ্রহণ করেছে। এবার শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে দেশটিতে। ১২ বছরের কম বয়সি শিশুকেও আগামী মাস থেকে টিকার আওতায় আনা হবে। দুজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুর জন্য অক্টোবরের শেষের দিকে টিকা সহজলভ্য হতে পারে। এর আগে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সিদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কমিশনার ডা. স্কট গটলিয়েব বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শিশুদের জন্য ফাইজারের টিকা প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ফাইজারের টিকার বিষয়ে আমার আস্থা রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বে শিশুদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে কিউবা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই শিশুদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু করেছে দেশটি। দুই বছর বা তার ঊর্ধ্বে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। কিউবা তাদের জনগণকে নিজেদের তৈরি টিকাই দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইচও) কিউবার তৈরি টিকাকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি।

বিদেশ সময় ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১;

Leave a Reply

Your email address will not be published.