সীমিত আয়ের মানুষদের নিয়ে ভাবতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল সারা দেশে আবারো চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে এখন ৬ শতাংশের ওপরে। শহর ও গ্রাম- দুই জায়গাতে একই চিত্র। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত নভেম্বরের শুরুতে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতিলিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য দুটির দাম ৬৫ থেকে এক লাফে ৮০ টাকায় ওঠে। ফলে সব পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে যে পণ্য ও সেবায় ১০০ টাকা খরচ হয়েছিল, গত ডিসেম্বরে ওই পণ্য এবং সেবা কিনতে মানুষকে ১০৬ টাকা ৫ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

করোনার আগে গত কয়েক বছর মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় থাকায় সরকার এক ধরনের সন্তুষ্টির মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন যেভাবে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে, এতে আর আগের সন্তুষ্টি নিয়ে আত্মতৃপ্ত থাকার সুযোগ নেই। পণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষ তথা নিম্নবিত্ত মানুষই বেশি কষ্ট পায়। তাই বাজার নিয়ে বেশি কথা না বলে সরকারের উচিত কখন কোন পণ্যের সংকট তৈরি হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া এবং টিসিবি বা খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করার মতো সামর্থ্য অর্জন করা। এতে ভোক্তার কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *