মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে পানিবদ্ধতা

চঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প আবরো পানিবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট পানিতে থই থই। ফসলি জমি, মাছের ঘের ও সবজি পানির নীচে। এ অবস্থায় কৃষকের মাথায় যেনো আকাশে ভেঙ্গে পড়েছে।পূর্বের পানিবদ্ধতার ঘা না শুকাতেই ফের পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে প্রবল বর্ষণের কারনে ও পানি নিস্কাশনেব্যাঘাত ঘটায়এ পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত মাসের বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই ফের কৃষকের মাথায় বাজ পড়েছে।

বৃষ্টিতে গত ৩২ বছরের রেকর্ড পানিবদ্ধতা। প্লাবিত মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মতলব উত্তর উপজেলার সব অঞ্চল। বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট পানিতে থই থই করছে। বিলগুলোতে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও সবজি পানির চাপে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ময়লা আবর্জনায় দখল হয়ে যাওয়ায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। যার কারনে মারাত্মক পানিবদ্ধতার সৃস্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বাড়ি, রাস্তা ও মৎস্য খামার।

গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের ভারী বর্ষণে এ বছর পানিবদ্ধতাদেখা দেয়। সেইপানিবদ্ধতায়রোপা আমনের বীজ তলা,রোপা আমন, আউস ধান ও সবজির মারাত্মক ক্ষতি হয়। কৃষকরা সে ক্ষতি পর আবারো জমিতে আবাদ করে। এবারের পানিবদ্ধতার তাদের আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় কৃষক চারদিকে অন্ধকার দেখছে ।

হানির পাড় গ্রামের লাল মিয়া,শহর আলী, আলী আজমসহ স্থানীয় বহু কৃষক জানান, এবারের ভয়াবহ পানিবদ্ধতায়তাদেরসহ বহু কৃষকের তিনবার পর্যন্ত তৈরি করা আমনের বীজতলা, রোপা আমন ও আউস ধানের সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। পানিবদ্ধতার কারণে প্রকল্প এলাকায় এক-তৃতীয়াংশ জমি চাষবিহীন অবস্থায় খালি পড়ে থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, গত মাসে সৃষ্ট পানিবদ্ধতা কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আবার নতুন করে আবাদ করেছে। এবারপানিবদ্ধতায়কৃষক মারাত্মক ক্ষতির সমূখিন হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান জানান, ভারী বর্ষণে সেচ প্রকল্পের ভিতরে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। পাউবোর নিস্কাশন খালগুলো সংস্কার করাই পানিবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়ার মূল উপায়। আমি এ বিষয়ে পাউবোর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পাম্পের মাধ্যমে পানি দ্রুত নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাউবোর পানি নিস্কাশন খালগুলো দখলমুক্ত ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.