স্কুলে অনলাইন ভর্তি আবেদনে জন্মতারিখ নিয়ে বিড়ম্বনা

স্কুলে অনলাইন ভর্তি আবেদনে জন্মতারিখ নিয়ে বিড়ম্বনা
স্কুলে অনলাইন ভর্তি আবেদনে জন্মতারিখ নিয়ে বিড়ম্বনা

চাঁদপুর সময় রিপোট-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য অনলাইনে ভর্তির আবেদন করার সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্ম তারিখ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেক অভিভাবক। প্রার্থী বাছাইয়ে লটারির পদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। তবে শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, ভর্তি নীতিমালাতে প্রত্যেক শ্রেণিতে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে অনলাইন সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনটি গৃহীত হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাবাজার এলাকার একটি কম্পিউটার সেন্টার থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে ছেলের জন্মনিবন্ধনের জন্মতারিখ নিয়ে বিপাকে পড়েন অভিভাবক মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিবার জন্মতারিখ টাইপ করলে ‘এরর’ বার্তা দেখায় কম্পিউটারে। পরে জানা গেল, তার ছেলের জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী বয়স ৬ বছরের কম। একই অভিযোগ করেছেন তাসলিমা বেগম নামে আরেকজন অভিভাবকও। তিনিও জানান, তার মেয়ের বয়স ৬ বছরের কম হওয়ায় অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনামুল হক হাওলাদার আমাদের সময়কে বলেন, এমন একটি অভিযোগ বরিশাল থেকে আমিও পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কারণ আমাদের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর বয়স হতে হবে। নয়তো অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার আবেদন গৃহীত হবে না।

ভর্তি নীতিমালায় শিক্ষার্থীর বয়সের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে। সে হিসাবে দ্বিতীয় থেকে ৯ম শ্রেণির ভর্তির বয়স নির্ধারিত হবে। তবে ভর্তির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় নির্ধারণ করবে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

এদিকে রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তানজিলা চৌধুরী বলেন, লটারির মাধ্যমে শিশুদের বাছাই ভাগ্যের খেলা। আমরা কী করে বুঝব লটারিতে কারচুপি হবে না? আমরা তো পাঁচটি স্কুলে আবেদন করছি। এটি কীভাবে বণ্টন করা হবে? সব কিছুই ধোঁয়াশা। একই ধরনের অভিযোগ করেন অভিভাবক ঐদ্রিলা সরকার। তিনি বলেন, একটি স্কুলে লটারি হওয়ার পর কি আরেকটি স্কুলে দৌড়াতে হবে?

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগরী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির এক সদস্য জানান, এখন পর্যন্ত লটারি কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা করছে। হতে পারে ঢাকার সব স্কুলের লটারি একটি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অভিভাবক, স্কুল প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসন এবং গণমাধ্যম উপস্থিত রাখা হবে। এ অনুষ্ঠান বড় কোনো মিলনায়তনে হতে পারে, তবে এখনো চূড়ান্ত নয়।

জানা গেছে, এ বছর একজন ভর্তি প্রার্থী যদি পাঁচটি স্কুলে আবেদন করেন, এক থেকে পাঁচ নম্বর পর্যন্ত ক্রমন্বয়ে লটারি হবে। যেমন একজন শিক্ষার্থী এ, বি, সি, ডি, ই- এই পাঁচটি স্কুলে আবেদন করেছে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর রোল নম্বরটি এ স্কুলে লটারিতে না আসে, বি, সি, ডি এবং ই- ক্রমান্বয়ে লটারি হবে এর মধ্যেই একটিতে তার রোল নম্বরটি থাকবে। এর পরও নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি হবে। নির্দিষ্ট আসনে কেউ স্কুল ত্যাগ করলে, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তি নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। আগামী ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ৩০ ডিসেম্বর লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মাবলি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর বিদ্যালয় থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ করা হচ্ছে না। ঢাকা নগরীর পাশাপাশি বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি শুধু টেলিটক প্রি- পেইড মোবাইল থেকে পরিশোধ করা যাবে। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। শিক্ষার্থীদের কোনো কোটা থাকলে তা আবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। এই আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট বা ডাউনলোড কপি ভর্তিসংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সংরক্ষণে রাখতে মাউশি অধিদপ্তর থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য ঢাকা মহানগরীর ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে প্রথম শ্রেণি রয়েছে ১৭টি বিদ্যালয়ে। রাজধানীর সবকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে তিনটি গুচ্ছে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গুচ্ছে পৃথক আবেদন করতে হবে। তবে একটি গুচ্ছ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ শতাংশ ‘এলাকা কোটা’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখতে পাবে। তখন প্রার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *