স্কুলে ভর্তির ১০ হাজার আবেদন বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ জন ও মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ জনের ভর্তি বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায় একাধিক আবেদন ও জন্ম নিবন্ধনে গড়মিল থাকায় লটারিতে নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারছে না এসব শিক্ষার্থীরা। একাধিক আবেদন এবং জন্ম নিবন্ধনে ত্রুটি থাকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব আবেদন বাতিল করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এই বাতিলের সাথে স্থানীয় স্কুল কতৃপক্ষের কিছু করার নেই বলেও জানা যায়।
তবে অভিভাবকদের সাথে আলাপ করলে অনেকে জানান। একাধিক আবেদনের সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আবেদন করার সময় দোকানদারের ইচ্ছে মতো ক্যাচমেন্ট, অথবা অন্যান্য তথ্য গড়মিল দিয়ে সাবমিট করে। এমনকি অনেক দোকানদারের বিরুদ্ধে নিজ থেকে একাধিক আবেদনের অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে একজন অভিভাবকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, একাধিক আবেদন যদি কোন দোকানদার করে থাকে তাহলে প্রতিটি আবেদনের জন্যইতো নির্ধারিত ফি দেওয়া হয়েছে। ফি প্রদান করা ছাড়াতো কোন আবেদন কমপ্লিট হয় না বা সাবমিট হয় না। তাহলে কি দোকানদার আপনার প্রতি উদারতা দেখিয়ে নিজের টাকা খরচ করে একাধিক আবেদন করেছেন ? এমন প্রশ্নের জবাবের পর তিনি আর কোন উত্তর দেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার সারাদেশে ৫৫০টি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ৮৯টি শূন্য আসনে ছয় লাখ ২৬ হাজার ৫৯টি আবেদন করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর লটারির মাধ্যমে সাধারণ, ক্যাচমেন্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আলাদাভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে লটারি করা হয়। লটারির মাধ্যমে একটি নির্বাচিত ও আরেকটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হয়। ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচিত তালিকার ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হয়। যেসব আসনে ভর্তি হয়নি সেখানে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একাধিক আবেদন করেছে। সেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্কুলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাদের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজারের বেশি এমন আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও একজন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য দেড় শতাধিক আবেদন করেছে বলেও চিহ্নিত হয়েছে।
একাধিক আবেদন করা শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করেছেন। তথ্য ভুল হওয়ায় দোকানদার না জানিয়ে একাধিক আবেদন করেছেন। অনেকের আবেদন করার সময় তথ্যগত ভুল হওয়ায় তারা একাধিক আবেদন করেছেন। কেউ কেউ আবার লটারিতে নির্বাচিত হতে ইচ্ছা করেই একাধিক আবেদন করেন।
মাউশির বিদ্যালয় (সরকারি) শাখার সহকারী পরিচালক দূর্গা রানী বলেন, সারাদেশে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের মতো ছাত্র-ছাত্রী লটারিতে নির্বাচিত হলেও একাধিক আবেদন চিহ্নিত হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবক ভর্তির আবেদন কম্পিউটারের দোকানির মাধ্যমে করে। দোকানদার ভুল করেও এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে। সেটি হয়তো আবেদনকারী জানতেও পারে না।
এদিকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ফি বেশি নেওয়া ও ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে তদন্তে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চারজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে পৃথক চারটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।
এতে ঢাকা মহানগরীর ১৬টি মনিটরিং কমিটি, আটটি বিভাগীয় মনিটরিং কমিটি, ৫৫টি জেলা মনিটরিং কমিটি জেলা সদরের এবং উপজেলা মনিটরিং কমিটি উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিন মনিটরিং করে মাউশিতে রিপোর্ট দেবে।
১ কলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *