সড়কদুর্ঘটনা : কিশোর গ্যাং বাইকারদের দৌরাত্ম্য

বাংলাদেশে যে পরিমান মানুষ অপমৃত্যুর শিকার হয় তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার কারণেই ঘটে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনার বর্তমান পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন করোনার মতো মহামারির চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহারিরও ঔষধ আছে, কিন্তু এই সড়ক দুর্ঘটনার কোন ঔষধ আবিস্কার করতে পারেনি কেউ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে । কিন্তু বাংলাদেশের মতো এতো অধিক দুর্ঘটনা উন্নয়নশীল বিশে^র কোথাও নেই।

সম্প্রতি চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এতোটাই বেড়েছে যে, স্বাভাবিক ও পেশাদার মোটরসাইকেল চালকরাও এখন ভিষণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এসব মোটর সাইকেল দুর্ঘনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করা হলেও এর পরিত্রাণের কোন উপায় খুঁজে বের করতে পারছে না কেউ।

বিশেষ করে চাঁদপুরের চিত্র দেশের অন্যান্য স্থানের থেকে কিছুটা ভিন্ন বলেই মনে হচ্ছে। বেশ কিছু দিন থেকে দেখা যাচ্ছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোটরবাইক নিয়ে চাঁদপুরের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণীর উঠতি বয়সী তরুন ও যুবকরা। এর মধ্যে অনেকের বয়স আঠারোর নীচেও রয়েছে। এসব বাইকাররা সড়কে অনেকটা সুপার হিরোর মতো বাইক চালায় এবং প্রচন্ড গতি নিয়ে ওরা চলাফেরা করে।

শহর থেকে গ্রাম কোথাও নিস্তার নেই এসব বাইকারদের দাপট থেকে। সড়কের নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে এসব বাইকারদের উশৃঙ্খলাতার কাছে সবাই হারমানতে বাধ্য হয়। কারণ এসব উশৃঙ্খল বাইকারদের রয়েছে কিশোর গ্যাং এবং গ্যাং লিডারও। তাই ওরা থাকে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের আটক করলেও গ্যাং লিডারদের তদবীরের বদৌলতে ওরা সহজেই পারপেয়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদপুর শহরে বাইকারদের দাপটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি মোটরবাইকে দুই থেকে তিনজন আরোহী থাকে। অভিযোগ রয়েছে এসব বাইকাররা অধিকাংশই মাদক পরিবহনের সাথে যুক্ত। ইয়াবাসহ এমন কিছু মাদক রয়েছে যা অল্প যায়গা দখল করে। যার কারণে মোটরবাইকে ঐসব মাদক পরিবহন অত্যন্ত সহজতর হওয়ার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা বাইকারদের ব্যবহার করে আসছে।

তাছাড়া এসব বাইকারদের বাইকের লাইসেন্স থাকলেও অধিকাংশের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। ট্রাফিক সূত্র থেকে জানাযায় তারা বাইকের এন্ডিকেটর লাইটগুলোর সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তাছাড়া সড়কে চলাচল নির্দেশনা সাইনবোর্ডের সঙ্কেত না বুঝার কারণেও অনেকে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।

আমরা মনেকরি এসব অযাচিত অসংখ্য দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই কিশোর বাইকারদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উঠতি বয়সের ছেলেদেরকে বাইক চালানোয় নিরোৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ না করলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্র করা যাবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া কিশোর গ্যাংদের মূলোৎপাটন করলে মাদকের বিস্তারও কমে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মোটরবাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেরা যাতে মোটরবাইক চালাতে না পারে সে জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। অন্যথায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবো অন্তত কিশোর গ্যাং বাইকারদের নিয়ন্ত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.