সড়কে চাঁদাবাজদের দমন করতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল বিভিন্ন তদন্ত ও প্রতিবেদনে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজি এ দুইয়ে মিলেই দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কাঁচাবাজারে বিক্রয় হয় এমন পণ্যের উৎপাদক অর্থাৎ কৃষক পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের যে দর থাকে ঢাকার বাজারে পৌঁছে তার খুচরা দাম অন্তত তিনগুণ বাড়ে। কৃষক বা দোকানদার সামান্য লাভ পেলেও মধ্যবর্তী ব্যবসায়ী ও লুটেরার দল এর সিংহভাগ নিয়ে যাচ্ছে। বলাই বাহুল্য বাড়তি অর্থ যাচ্ছে ক্রেতার পকেট থেকে। এটি অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের অবৈধ উপার্জন। সরকার সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে, পুলিশও নির্দেশ দিয়েছে পণ্যবাহী গাড়ি গন্তব্য ছাড়া কোথাও থামানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পণ্যবাহী গাড়ির বৈধ পার্কিং এবং চালকদের বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। অর্থাৎ সরকার পুরো বিষয়টাকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে চায়। আমরা বলব, এ কাজে সফল হতে হলে আগে শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে- দুর্নীতিবাজ পুলিশ এবং দলের চাঁদাবাজদের দমন করতে হবে। এ ছাড়া কঠোর ব্যবস্থা বা নির্দেশনা সফল হবে না, সরকারেরও আন্তরিকতার প্রমাণ মিলবে না।
চাল, ডাল, তেলসহ যেসব খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি রয়েছে দেশে সরকার এসবের আমদানিতেও যথেষ্ট কর ছাড় দিয়েছে। আমদানিও হচ্ছে বলেই আমরা জানি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমাদের পুরো বাজারই মূলত বিক্রেতার বাজার। একে ক্রেতাবান্ধব তথা ক্রেতার বাজারে রূপান্তর করতে হবে। সরকার এ লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার রক্ষার একটি অধিদপ্তর চালু করেছে। কিন্তু ১৭ কোটি মানুষের দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট দপ্তরের পক্ষে সীমিত লোকবল নিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক কাজে সফল হওয়া কঠিন। ফলে ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে অব্যবস্থা চালু থাকছে। আমরা বলব, পুরো বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশের ক্রেতাসাধারণকে স্বস্তি ও শান্তি দেওয়া সরকারের বড় দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.