সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

সারাদেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা না হওয়াটাই যেন এক অলৌকিক বিষয়। এ নিয়ে এত আলোচনা, আন্দোলন ও নির্দেশনার পরও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সরোজ সুশীল বার্ধক্যজনিত রোগে ১০ দিন আগে মারা যান। তার সাত ছেলে ও এক মেয়ে। বাবার শ্রাদ্ধ করতে তারা ঘরের আঙিনায় প্যান্ডেল তৈরি করেছিলেন। ভোর ৫টায় রাস্তার মাথায় বেপরোয়া একটি পিকআপ ভ্যান চাপা দেয় আট ভাইবোনকে। এতে নিহত হন- মৃত সরোজ সুশীলের ছেলে অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দিপক সুশীল, চম্পক সুশীল ও সরণ সুশীল। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রক্তিম সুশীল, প্লাবন সুশীল ও তাদের বোন হীরা সুশীল।
একটি দুর্ঘটনায় পাঁচ ভাই নিহতের ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন এ পরিবারের সব সদস্য ও তাদের স্বজনরা। যা খুবই বেদনাদায়ক। কিন্তু এই মৃত্যুগুলোর দায় কে নেবে? আগের অনেক দুর্ঘটনায় দেখেছি ড্রাইভার বাদ দিয়ে গাড়ি হেলপার চালাচ্ছিল। এ ঘটনায় তাই ঘটল কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ। এ থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। কিন্তু কঠিন শাস্তি হয় না বলে সড়কে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে। এর পর সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যক্তির মৃত্যুর দায়ে পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে সংসদে আইন পাস হয়। ‘কঠোর আইন’ থাকা সত্ত্বেও সড়কে হরহামেশা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনা একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা। এ বিষয়ে কোনো ছাড় কাম্য নয়। সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট হতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন কেউ যেন গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে না পারে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উল্লেখিত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দায়ীদের অবশ্যই আইনানুগ শাস্তি প্রদান করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবে- এটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.