সড়ক দুর্ঘটনা ঈদের আনন্দ মলিন করেছে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েলবরাবরের মতো ঈদের ছুটিতে দেশের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছিল। বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত স্থানে রিসোর্ট তৈরি হয়েছে। ফলে ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ এমনকি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সেখানে ছুটেছেন এই বন্ধে। মানুষের ছুটি কাটানোর এই উৎসাহ প্রমাণ করে, দেশের অর্থনীতি সার্বিকভাবে উন্নত হচ্ছে। এটি শক্তিশালী অর্থনীতির লক্ষণ। কেবল দেশের অভ্যন্তরেই মানুষের বেড়ানোর গন্তব্য সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের বাইরে দূরে-কাছে নানা দেশে বাংলাদেশের মানুষ ছড়িয়ে পড়েছিল ঈদের ছুটিতে। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাবেচার অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা ছিল। দোকান মালিক সমিতির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বেচাবিক্রি তাদের প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে। তাদের ধারণা ছিল সর্বোচ্চ দেড় লাখ কোটি টাকার কেনাবেচা হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
ঈদের সময়ে বিয়োগান্তক ঘটনাও কম নয়। এমনিতেই বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে, তাতে মৃত্যুর হারও ঊর্ধ্বমুখী। এবার কেবল ঈদের আগের দিনসহ চার দিনেই সড়কে ঝরেছে ৫১ জনের প্রাণ। দূর-দূরান্তের আরও খবর এলে এবং ছুটির নয় দিনের খবর পেলে এ সংখ্যা যে আরও বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। দেখা যাচ্ছে সড়ক দুুর্ঘটনার দায় এবং শিকার উভয় ক্ষেত্রেই মোটরসাইকেল রয়েছে শীর্ষে। এ ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। আমাদের মনে হয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি করা প্রয়োজন। বর্তমানে দুর্নীতির কারণে পরীক্ষা না দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ি না দেখিয়ে ফিটনেস সনদ এবং রোড পারমিট আদায় করা যায়। উন্নয়নশীল দেশে গাড়ি বাড়বে, নতুন নতুন মানুষ চালক হিসেবে এ পেশায় আসছে। এই পরিবর্তনের সময়ে সব বিষয়ে কড়াকড়িভাবে নিয়ম মানা জরুরি। তাতে ঈদের আনন্দ আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.