সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আরো কঠোর হতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল :

সারাদেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা না হওয়াটাই যেন এক অলৌকিক বিষয়। এ নিয়ে এত আলোচনা ও আন্দোলনের পরও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। গতকাল আমাদের সময়ের সংবাদ সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুটি সংগঠন কাজ করে। সংগঠন দুটি হলো নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গত শনিবার নিসচা জাতীয় প্রেসক্লাবে আর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সংবাদ সম্মেলনে তথ্য তুলে ধরে বলে, সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। নিরাপদ সড়ক চাইর (নিসচা) হিসাবে, গত বছর ৩ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২৮৯ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, গত বছর সারাদেশে ৫ হাজার ৩৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ শতাংশ। যদিও করোনার বিধিনিষেধের কারণে অফিস-আদালত, দোকানপাট ও গণপরিবহণ বন্ধ ছিল। তার পরও কেন বাড়ছে দুর্ঘটনা। বাড়ার অন্যতম কারণ হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আর ২০২১ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মোট সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫০ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৫১ দশমিক ৩৩ শতাংশ যা সত্যি উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা কি কমানো সম্ভব নয়। নাকি যারা সড়কে বিশৃঙ্খলার সুবিধাভোগী, তারাই নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন কমিটিতে বসে আছেন। তাদের জন্যই এভাবে দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। এত আন্দোলনের পরও দুর্ঘটনা কমছে না বরং বাড়ছে। আমরা মনে করি সরকারকে এটি উপলব্ধি করতে হবে, স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে নতি স্বীকার নয়।

সড়ক দুর্ঘটনা একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা। এ বিষয়ে কোনো ছাড় কাম্য নয়। সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট হতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে। সামগ্রিকভাবে দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টরা যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দৃঢ় এবং আন্তরিক হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *