হরিনা ফেরিঘাটে পরিবহনের ৩ কিলোমিটার জট

স্টাফ রিপোটার চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি রুটের হরিণাঘাট অংশ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হরিণা ঘাট অংশে পারের অপেক্ষায় আছে কমপক্ষে ৫শ’ থেকে ৬শ’ যানবাহন। সড়কে দীর্ঘ লাইনে যানবাহন থাকায় জেলার আভ্যন্তরীন যানবাহন চলাচলও ব্যহত হচ্ছে। ৫ মিনিটের পথ আধা ঘন্টায়ও অতিক্রম করতে পারছে না। বিশেষ করে অসুস্থরোগী নিয়ে হাইমচর উপজেলা ও সদর দক্ষিণের লোকজন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত টানা ১০ ঘন্টা কুয়াশা থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল এবং চরমোনাই মাহফিলের গাড়ী বেড়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হরিণাঘাট এলাকায় গিয়ে দেখাগেছে ফেরিঘাট থেকে পূর্ব দিকে ফরিদগঞ্জ ভাটিয়ালপুর সড়কে কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের কারণে ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারছে না। যানজটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো সদরের নানুপুর বাগাদীর ২৫ কিলোমিটার সড়ক অতিরিক্ত ঘুরে হরিণা ঘাটে আসছে।

সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী মফিজুল ইসলাম বলেন, হাইমচর আলগী বাজার থেকে জেলা সদরে চিকিৎসার জন্য রওয়ানা হয়েছেন। কিন্তু যানজটের কারণে প্রায় আধা ঘন্টার বেশী সময় সড়কে আটকা পড়ে আছেন। এই সড়কে কোন ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেই।

চট্টগ্রাম থেকে আসা মালবাহী ট্রাক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, এই ঘাটে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। আগের চাইতে গাড়ীর সংখ্যাও বেড়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের কারণে ফেরি বন্ধ থাকলে এই জট স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন সময় লাগে। শুক্রবার রাত থেকে সড়কে অবস্থান করছি।

রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়ের বলেন, দিনের সিরিয়ালের কিছু গাড়ী কমেছে। কিন্তু আবার নতুন করে গাড়ী এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। যে কারণে যানজট লেগেই থাকছে।

রাতে সাড়ে ৮টায় এই বিষয়ে বিআইডাব্লিউটিসি হরিণা ফেরিঘাট এলাকার ম্যানেজার (বাণিজ্য) আব্দুন নুর বলেন, গত কয়েকদিন যানজট কম ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে প্রায় ১০ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। যার ফলে হরিণা ও আলু বাজার অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২শ’রও অধিক গাড়ী পার হয়। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় যানজট বেড়েগেছে। এছাড়াও চরমোনাই মাহফিলের কারণে আরো প্রায় ৫০টিরও বেশী অতিরিক্ত যাতীবাহী পরিবহন বেড়েছে। তবে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।

তিনি বলেন, সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমি আজকে চাঁদপুরের টিআই এর সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন খুব শীগগীরই ট্রাফিক পুলিশ দেয়ার চেষ্টা করবেন।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা একেএম কায়সারুল ইসলাম বলেন, হরিণা ফেরিঘাটে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা যানজট নিরসনে আরেকটি ফেরিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ বছরই হরিণা এবং আলু বাজার অংশ ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। হরিণা ঘাট থেকে ফরিদগঞ্জ ভাটিয়ালপুর সড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.