হর্নের অপব্যবহারে সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জরুরি

শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার বড় কারণ হর্নের আওয়াজ। যানবাহন চালকদের অযথা হর্ন বাজানোর কারণে শহরগুলো শব্দদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। হর্ন বাজানো বন্ধে আইন ও বিধিমালা থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ সীমিত। হর্নের অযথা ব্যবহার বন্ধে আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই।

শুধু আইন প্রয়োগ করে হর্ন বাজানো বন্ধে সাফল্য আসবে না। অযথা হর্ন বাজানো বন্ধে সঠিক পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নে নামতে হবে। নাগরিকদের মানসিকতাতেও বদল আনতে হবে।

২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৮৮ ধারা অনুযায়ী উচ্চমাত্রায় হর্ন বাজালে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই কর্তৃপক্ষ পুলিশ না, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফলে হর্ন বন্ধে পুলিশের কার্যত হাতপা বাঁধা। শব্দ দূষণ বিধিমালার প্রয়োগে ব্যর্থতা রয়েছে। নীরব এলাকা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে, যা হর্নের বড় উৎস। হর্নের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।

অযথা হর্নের কারণে কত টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়, সেটার সামগ্রিক কোনো গবেষণা নেই। তবে, শব্দ দূষণের প্রভাব সামগ্রিকভাবে ব্যপক। শব্দ দূষণের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেশের জিডিপিতে প্রভাব পড়ছে। ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে শব্দ দূষণ কমবে না। শব্দ দূষণ বন্ধে বিদ্যমান আইনের কতটা প্রয়োগ হচ্ছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

হর্ন না বাজিয়েও গাড়ি চালানো সম্ভব, বাংলাদেশের চালকেরা এটি বিশ্বাস করেন না। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের সঙ্গে বাস্তবতার চরম বৈসাদৃশ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন, জনস্বাস্থ্যের ওপর হর্নের প্রভাবের কথা প্রচার করতে হবে।
শব্দ দূষণের কারণে একদিকে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনক্ষমতা কমেও ক্ষতি হচ্ছে। হর্নের ব্যবহারের সঙ্গে সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনার মতো বিষয় সংশ্লিষ্ট। সামগ্রিকভাবে হর্ন বন্ধে পদক্ষেপ না নিলে, এটি সম্ভব হবে না। নীরব এলাকা ঘোষণার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে যা যা করা দরকার, সেগুলোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
অন্তত একটি এলাকাকে হর্নমুক্ত করা গেলে, তা মডেল হিসেবে পরর্বতী কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য সরকারের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকে হর্ন ব্যবহার বন্ধে সচেতন করতে রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের কাজে লাগাতে হবে।

অযথা হর্নের কারণে নাগরিকদের ধৈর্য্য কমে যাচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্ম যেন শব্দদূষণ ছাড়া বেড়ে ওঠতে পারে, সে জন্য হর্নের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *