হাইমচরে হুইল চেয়ার না পেয়ে প্রতিবন্ধী মেম্বার প্রার্থী

শারীরিক প্রতিবন্ধী রুহুল আমিন ছৈয়াল। হুইলচেয়ারে ভর করেই চলতে হয় তাকে। নিজের থাকা চেয়ারটি নড়বড়ে হয়ে যায় বেশ কয়েকবছর আগে। তাই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি হুইল চেয়ার দাবি করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু এখনো মেলেনি সেই হুইলচেয়ারের দেখা।

এদিকে পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি তার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই জনপ্রতিনিধিদের ওপর ক্ষোভ ও আক্ষেপে নিজেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রুহুল আমিন। মেম্বার পদে নির্বাচিত হয়ে নিজের মতো প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এলাকাবাসীও সাধুবাদ জানিয়েছেন তাকে।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মতিনের ছেলে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী রুহুল আমিন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মতিনের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চলাফেরার অবলম্বন দুটি পা হারান। এখন হুইলচেয়ারই তার ভরসা। এলাকায় চায়ের দোকান দিয়ে কোনরকম সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে একটি হুইল চেয়ারের জন্য দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি। তাই নিজে এ বছর নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী মেম্বার প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ২০ বছর যাবত আমি প্রতিবন্ধী জীবনযাপন করছি। চলাফেরার সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার জন্য আমি মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে অনেক ঘুরেছি। কিন্তু পাইনি। তখন আমার মাথায় চিন্তা এলো আমি প্রতিবন্ধী হয়েও যেহেতু পাইনি সমাজে এমন অনেক অবহেলিত মানুষ আছে যারা সরকারি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। পরে আমি প্রার্থী হওয়ার চিন্তা করলাম। এলাকাবাসীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারা আমাকে সাহস ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাদের ভরসাই পরবর্তীতে আমি প্রার্থী হয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে আমি আমার এলাকাবাসীর সহযোগিতা, দোয়া ও ভোট আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন গরীব হওয়ায় অসহায় মানুষের দুঃখ কষ্ট বুঝি। তাই নির্বাচিত হলে এলাকার অসহায় ও গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াবো।

মাইন উদ্দিন গাজী, রফিক মিজিসহ এলাকার কয়েকজন ভোটার বলেন, যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভোটারদের সহানুভূতি আছে তার পক্ষে। অপরদিকে জয় পরাজয় যাই হোক না কেন প্রতিবন্ধী হয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি সাহসিকতার বিষয়। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।

কেউ কেউ বলেন, যে কারণেই হোক সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তাই তাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি সে নির্বাচিত হলে এলাকার গরিব অসহায় মানুষের পাশে থাকবে এবং নিজেও কিছুটা স্বাবলম্বীভাবে চলতে পারবে।

আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও প্রার্থী নজির আহমেদ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল এলাকার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং নির্বাচনে আমার ক্ষতি করার জন্য তাকে প্রার্থী হিসেবে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, একজন প্রতিবন্ধী প্রার্থী হয়েছে, বিষয়টি অনেক আনন্দের। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব প্রস্তুতি আছে। শুধু ওই ওয়ার্ডে নয় প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সবসময় মাঠে টহলে থাকবে।

এই ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৯ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য পদে ১২০ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *