হাজীগঞ্জের সেই প্যানেল চেয়ারম্যানের বয়স্ক ভাতা বাতিল হচ্ছে

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি জন্ম নিবন্ধনে বয়স লুকিয়ে বয়স্ক ভাতা নেয়া ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যানের নেয়া বয়স্ক ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মঙ্গলবার ২৯ মার্চ এই নির্দেশ দেন ইউএনও মোমেনা আক্তার। মাহফুজা বেগম নামের এই প্যানেল চেয়ারম্যান হাজীগঞ্জের ৫নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত-৩ (ওয়ার্ড নং-৭, ৮ ও ৯) ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা পেতে হলে নারীদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর হতে হয়। মাহফুজা বেগমের প্রাপ্ত মূল জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ২/৮/১৯৭৯। সেই সূত্রে তার বর্তমান বয়স ৫২ বছর ৭ মাস ২৭ দিন। তিনি আরো ৩ বছর আগে থেকে বয়স্ক ভাতার সুবিধা নিচ্ছেন। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত হাফিজ উদ্দিন তালুকদারের মেয়ে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গত পরিষদে অর্থাৎ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফিকুল ইসলাম মীর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মোসাঃ মাহফুজা বেগম তার মা মরহুম তফুরেন্নেছার প্রাপ্ত বয়স্ক ভাতার কার্ডটি তার নামে প্রতিস্থাপন করার জন্যে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তফুরেন্নেছার নামে তার মায়ের বয়স্ক ভাতার কার্ডটি প্রতিস্থাপন হলে তিনি ২০২০ সাল থেকে তিনি ভাতার টাকা ভোগ করে আসছেন। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ অনুযায়ী ওই সময়ে তার বয়স ছিল প্রায় ৫১ বছর। এ বিষয়ে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান তফুরেন্নেছার সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়েরর একটি সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩০ জুনের পর সকল ভাতা অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যার ফলে তথ্য গোপন করে নতুনভাবে ভাতা ভোগ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর আগে এনালগ সিস্টেম থাকার কারণে কিছু অনিয়ম হয়েছে। যা পরবর্তীতে চিহিৃত বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অনেকের ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফিকুল ইসলাম মীর বলেন, জানতে পেরেছি মোসাঃ মাহফুজা বেগমের মা বয়স্ক ভাতা ভোগ করতেন। তার মা মারা যাওয়ার পর তিনি ভাতার কার্ডটি নিজ নামে প্রতিস্থাপন করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি স্বাক্ষর দেইনি। ওই সময়ে মাহফুজা বেগম দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যানের দিয়ে তার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন জানান, নবাগত ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে আমি কিছুদিন আগে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারিনা তবে খোঁজ নিয়ে জানাবো।
হাজীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহদাত হোসেন প্রশিক্ষণে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের রুটিন ওয়ার্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু ইসহাক জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বয়স না হলে তার (মোসাঃ মাহফুজা বেগম) বয়স্ক ভাতার সুবিধাটি গ্রহণের কোন সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.