হাজীগঞ্জে জীবনে প্রথম ভোট দিলেন ২ বৃদ্ধা !

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘ বহু বছর পর ও স্বাধীনতার পর এই প্রথম ইভিএম পদ্বতিতে শান্তিমত ভোটদিতে পেরে ২বৃদ্বার স্বন্তির নি:শ্বাস ফেললেন ! তারা বললেন দেশে মনে হচ্ছে,গনতন্ত্র ফিরে এসেছে। বিগত বহু বছর যাবত আমরা এলাকায় শান্তি মত ভোট দিতে পারিনি। এ বছর ভোট দিতে পেরে আনন্দ লাগছে তাদের মনের মধ্যে।
তারা জানান,স্বাধীনতার পর ভোট দিয়েছি। তার পর বিগত সরকারের সময় ভোট কেন্দ্রে যেতে সাহস পাইনি। এ বছর তারা বৃদ্বা বয়সে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা পোষন করলে তাদের ছেলেরা তাদেরকে অতি কষ্ট শিকার করেও ভোট কেন্দ্রে এনে অল্প সময়ে শান্তিমত ভোট দিতে পারায় ২বৃদ্বার স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে ভোটের সাথে জড়িত সকলকে ২ হাত তুলে খোদার কাছে দোয়া করলেন।

গতকাল রোববার(২৬ডিসেম্বর) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিষয়ে রাজার গাঁও এলাকার মৃত স্বামী হাবিবুল্লাহ্ শেখের স্ত্রী বৃদ্বা সুফিয়া বেগম(৯০),এর সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান,স্বাধীনতার পর কয়েক বছর কোন রকম জামেলা ছাড়া এ বছর অত্যান্ত শান্তিতে অল্প সময়ে ভোট দিতে পেরেছি।

তখন আমার বয়স কমছিল। নিজে নিজে এসে ভোট দিতে পেরেছি। কোন প্রকার সমস্যা হয়নি। বিগত বহু বছর যাবত ভোটের পরিবেশ না থাকায় ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসিনি। ভোটদিতে এসে আতংকের মধ্যে থাকতে হতো।

এ বছর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ,পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ (পিপিএম বার) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করায় ভাল ভোট হবে যেনে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন বৃদ্বা সুফিয়া বেগম(৯০)। তিনি তার ছেলের সাথে অনেক কষ্ট করে রোববার ১টা ৪০ মিনিটে রাজার গাঁও মুকন্দ্রাসার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছেন। এ বৃদ্বা বয়সে ভোট দিতে পারার তিনি অনেক আনন্দ পেয়েছেন বলে জানান।

অপরদিকে রাজার গাওঁ এলাকার ১৭৭ নং মুকন্দ্রাসার গ্রামের মৃত আমজাদ আলী পাটওয়ারীর মেয়ে আরেক বৃদ্বা হাফেজা বেগম(৯৫) গতকাল রোববার দুপুরে ৯নং মুকন্দ্রাসার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন নিজ পুত্র জসিমউদ্দিনকে নিয়ে ভোট দিতে। তখন তার সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান,স্বাধীনতার পর কয়েক বছর ভোট দিয়েছি অত্যান্ত আনন্দের সাথে।
তিনি আরো জানান, বিগত অনেক বছর যাবত আমার ভোট আমি দিতে পারিনি। স্বাধীনতার পরই পূর্নভাবে কম সময়ে ভোট হবে যেনে আমি ভোট দিতে ইচ্ছা পোষন করি। যার ফলে আমার ছেলে রহিম আমাকে নিয়ে আসে নতুন পদ্বতির ভোট দেওয়ার জন্য। স্বাধীনতার পরই এই প্রথম এ বছর শান্তি পূর্নভাবে আমি এবছর আমার ইচ্ছা মত ভোট দিতে পেরেছি। তবে বিগত দিনে এরকম ভাবে ভোট দিতে পারিনি। আমি এ ভাবে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোটদিতে পেরে আনন্দ পাচ্ছি। আমি ইভিএম পদ্বতিতে ভোট দিতে পেরে আমার অনেক আনন্দ লাগছে। তিনি আরো বলেন, এলাকার শিশু,কিশোররা সকলের কাছে ভোটের জন্য গিয়েছে,নির্বাচন করা প্রার্থী ও ভোট চেয়ে আমাদের বাড়িতে গিয়েছে, শিশুদের সহায়তায় বাড়ি থেকে এগিয়ে আসায় জন্যও সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এলাকাসাবী জানান,বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরনা বর্তমানে আমার ভোট আমি দিব যাকে ইচ্ছা তাকে দিব তা’বাস্তবে রুপ দিয়েছে। তাই তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানাই। এ ভাবে যেন আগামীতেও আমাদের দেশে ভোট হতে পারে সে ইচ্ছা পোষন করেন এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *