হাজীগঞ্জে বিক্রি হওয়া সেই শিশু ফিরলো মায়ের কোলে

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি খরচ জোগাড়ে সন্তান বিক্রি, পুলিশের সহায়তায় বাবা-মায়ের কোলে ফিরল শিশু। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে টাকার জন্য বিক্রি করে দিয়েছিলেন নিজের শিশুসন্তানকে। এমন ঘটনা জানাজানির পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২১ মার্চ) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাবা চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে নিজের ১৩ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বিকেলে তা নজরে আসার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

গতকাল বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সেই শিশুকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় ফুল, ফল ও খেলনা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার শিশুর বাড়িতে গিয়ে বাবা ও মায়ের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোবায়েরা আক্তার মিনা নামের ১৩ মাস বয়সী শিশুকে মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বাবা ও মা। তাদের বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিলওয়াই গ্রামের ইউনুস মজুমদারবাড়ি। সেই শিশুসন্তানের বাবা ও মা হচ্ছেন মো. বশির ও মা আছমা আক্তার।

গত সোমবার দুপুরে চাঁদপুর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে রাজধানীতে নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে সন্তানকে মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি শুরু হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
তবে শিশুটির বাবা মো. বশির জানান, ২০১৬ সালে সিএনজিচালিত স্কুটারচাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে টাকার অভাবে চিকিৎসা ও ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে আয়-রোজগার করতে পারছেন না তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর ও ১৩ মাস বয়সী দুই কন্যাশিশু রয়েছে আমাদের। টাকার অভাবে আমার চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ ও বাচ্চাদের খাবার ক্রয় করতে পারছি না। এদিকে অসুস্থতার কারণে কাজও করতে পারছি না। তাই ছোট মেয়েকে দত্তক দিয়ে দিয়েছি। বিনিময়ে তারা আমার চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা দিয়েছে। ‘

শিশুর মা আছমা আক্তার বলেন, ‘মেয়ের জন্য পরান কান্দে (মায়া লাগছে)। কিন্তু কী করব, আমার স্বামীর চিকিৎসা দরকার। তিনি অসুস্থতার জন্য কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি সুস্থ থাকলে আমাদের খাওয়া-পরা চলত। এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মেয়েটারে দত্তক দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ফিরে পেয়ে শান্তি পাচ্ছি। ‘

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ দলকে ঢাকায় পাঠানো হয়, যাতে মেয়েটিকে উদ্ধার করা যায়। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (২৩ মার্চ) ভোরে উপপরিদর্শক নাজিমউদ্দীনের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরো জানান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের নির্দেশে এই পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া অসহায় পরিবারের পাশে পুলিশ থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.