হাজীগঞ্জে সেই মর্ডান ডেন্টাল কেয়ার সিলগালা ও জরিমানা

আশিক বিন রহিম ভুয়া চিকিৎসকদের বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় হাজীগঞ্জের আলোচিত সেই মর্ডাণ ডেন্টাল কেয়ারকে সিলগালা ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। ১১ এপ্রিল সোমবার দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই সাজা দেয়া হয়।এর আগে ‘মৃত চিকিৎসকের সাথে তিন ভুয়া চিকিৎসক মিলে করছেন দাঁতের চিকিৎসা’ শিরোনামে চাঁদপুর টাইসমসহ অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই প্রতিবেদক। এসম সংবাদ প্রকাশের পর নিউজটি টক অব দা টাউনে পরিনত হয়। বিষয়টি নজরে এলে সোমবার হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ তদন্ত কাজে মর্ডাণ ডেন্টাল কেয়ারের চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ভুয়া চিকিৎসক তাহমিনা আলী। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠানের মালিক তাহমিনা আলীকে প্রতারণার দায়ে বিশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির সকল প্রকার কাগজপত্র বৈধ করার আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে দুইটি তালা ঝুলিয়ে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।
হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদী হাছান মানিক পপুলার বিডিনিউজকে জানান, ডা. মাহবুব আলী নামে কেউ এখানে আসেন না। চিকিৎসা সেবাও দিচ্ছেন না। ডা. তাহমিনা আলীর হোমিও চিকিৎসার কিছু কাগজপত্র দেখাতে পারলেও দেখাতে পারেনি ডেন্টালের কোন বৈধ কাগজপত্র। এছাড়া তার স্বামী দেড় বছর আগে মারা গেলেও এখনও প্রেসক্রিপশন দেয়া হয় তার নামে।
ওইসময় উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম মাওলা, মেডিকেল অফিসার ওমর ফারুক, উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর সামছুল ইসলাম রমিজ ও উপ-পরিদর্শক আজিজ প্রমুখ।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল শনিবার দুপুরে সরজমিনে চাঁদপুর-রায়পুর মহাসড়কের উত্তর পাশে হাজীগঞ্জ বাজারের লক্ষ্মী নারায়ন মার্কেটস্থ এই দন্ত্য চিকিৎসালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাইনবোর্ড, পেসকিপশনে রয়েছে ৩ জন দন্ত্য চিকিৎসকের নাম। যাদের ১জন দেড় বছর আগে মারা গেছেন। এই মৃত্য চিকিৎসকের নামে এখনও প্রচার হচ্ছে সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড। লেখা হয় রোগীর প্রেসক্রিপসনও। আরেকজন ফক্সি চিকিৎসক। যিনি অন্যের সনদ নিজের নামে ব্যবহার করে রোগী দেখেন। বাকী দুইজন মৃত চিকিৎসকের স্ত্রী এবং কলেজে পড়ুয়া ছেলে। বৈধ কোন সনদ না থাকলেও নামের আগে ডাক্তার লিখে রোগী দেখছেন নিয়মিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.