হাজীগঞ্জে ১৩শ হেক্টর জমির সবজি পানির নিচে

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি পানিতে ডুবে গেছে। বৃষ্টি থামার পরও অধিকাংশ জমির পানি এখনো নামছে না। এতে অনেক এলাকায় শীতকালীন সবজি পচে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিতে হাজীগঞ্জে ডুবে গেছে ২৮০ হেক্টর আলুখেত ও ৪০৫ হেক্টর সরিষাখেত। একই সঙ্গে ডুবে গেছে ৬০০ হেক্টর অন্যান্য শীতকালীন সবজিখেত। টানা বৃষ্টিতে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের অন্যতম আলু ও সরিষা উৎপাদনকারী অঞ্চল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা। গত বছরও আলু চাষ করে লাভের মুখ দেখেছিলেন অধিকাংশ কৃষক। উৎসাহ পেয়ে এবারও আলু চাষে নেমেছেন তাঁরা। কয়েক সপ্তাহ ধরে জমিও প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু দুদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ ফসলি জমি।

উপজেলার পাতানিশ গ্রামের কৃষক চাঁদ মিয়া বলেন, ‘আমি এ বছর দেড় একর জমিতে আলুবীজ রোপণ করেছি। আরও এক একরে আলুবীজ রোপণ করব। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। যার ফলে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আলুবীজ বৃষ্টির পানিতে ডুবে এখন পচনের মুখে। আলুবীজ পচে নষ্ট হয়ে গেলে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাকে।’

একই এলাকার অন্য এক কৃষক জানান, কৃষকেরা জমিতে সার এবং কীটনাশক দিয়ে আলুবীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছেন। বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতকৃত জমি নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

অপর দিকে আলুর উৎপাদন ব্যাহত হলে আলুর দাম কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর আলুর দাম সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা আবারও আলু চাষে মনোযোগী হন। ফলে সবাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন এ বছর পেছনের সব ঘাটতি পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকদের সেই আশা গুঁড়েবালি। ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মাঠকে মাঠ ফসলি জমি এখন পানির নিচে। এর মধ্যে যেসব ফসল এখনই ঘরে তোলার সময় হয়েছে, সেসবও ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকেরা বলছেন, এমনিতেই সার ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ আগের মতো নেই। তারপরও কৃষি বিভাগ কিছু সার ও বীজ দিয়ে এ বছর সহযোগিতা করেছে। এতে কৃষকদের উপকার হয়েছে। কিন্তু যে আশা নিয়ে বীজ বপন করেছেন, তা যেন জলেই ভেসে যাচ্ছে।

এদিকে অসময়ের এই বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজিরই ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন কৃষকেরা। উপজেলার সদর ইউনিয়নের অলিপুর এলাকার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এই মৌসুমে সবজির ভালোই ফলন হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমাদের মনে হয় সব শেষ হয়ে যাবে।’

উপজেলার চেঙ্গাতলি এলাকার কৃষক খোরশেদ বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে শীতকালীন সব ধরনের শাকসবজিরই ক্ষতি হচ্ছে। এতে এ মৌসুমে সব ধরনের শাকসবজির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকেরা। হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনার জন্য ইতিমধ্যে কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যেন এ প্রণোদনা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *