হাটবাজারে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি

চাঁদপুরের ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সম্পদ। দেশের অর্থনীতিতে ইলিশ এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইলিশ জাতীয় মাছ হলেও এক সময় ইলিশ রপতানীতে সরকারের মনোযোগ ছিল না। দেশের গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশে^ যখন ইলিশের চাহিদা বাড়তে থাকে ঠিক তখনই সরকার এদিকে নজর দেয়। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বিশেষ করে মিঠা পানির ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নদী নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। মা ইলিশ যেন নির্ভিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে সেই জন্য মিঠা পানির নদীগুলোকে ঘোষণা করা হয় মা ইলিশের অভয়াশ্রম। তার মানে হলো মা ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার সময় হয় তখন মিঠা পানির সন্ধানে ছুটতে থাকে। এর মধ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভয়াশ্রমে পরিনত হয়। সারা বিশে^ যখন পদ্মা-মেঘনার ইলিশের চাহিদা বাড়তে থাকে তখন মা ইলিশ এবং ছোট ইলিশ জাটকা রক্ষার জন্য আরো কঠোরতা শুরু করে সরকার। প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে পরবর্তী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে ১০ ইঞ্চির কম ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু বাজারে যেই সাইজের জাটকা পাওয়া যাচ্ছে তা ১০ ইঞ্চির উপরে নয় বরং ৫-৬ইঞ্চি জাটকার সংখ্যাই বেশী। বাজারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যে, নদীতে জাটকা ধরতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বিক্রি করতে কোন বাধা নেই।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ করা হলেও চাঁদপুরের বিভিন্ন হাটবাজার ও আনাচে-কানাচে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি করছে। এতে কোন বাধা দিচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অবস্থাটা এমন যে, ধরতে মানা, কিন্তু বেচতে মানা নেই’।
জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.