হাসপাতালে স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার চাঁদপুরের মতলব আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে গত ৭ দিনে দুই হাজার ৭৬৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। গড়ে প্রতিদিন ৪ শতাধিক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চারগুণ বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে বয়স্ক ও শিশু। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর কোনো রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গত বছরের তুলনায় এ বছর চলতি সময়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন প্রায় দ্বিগুণ। আবহাওয়াজনিত কারণে এবং বাইরের খাবার ও পচা-বাসি খাবারের কারণে ডায়েরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাসপাতালের ৩টি কক্ষে ধারণ ক্ষমতা ৭০ জন রোগীর। বারান্দায় তাঁবু টানিয়ে ৪ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের ৩টি কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বারান্দায় বেড বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চাঁদপুর জেলা সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর, কুমিল্লা জেলার বরুড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা সদর উত্তর, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, তিতাস উপজেলা, কক্সবাজার বাজার সদর, ফেনী, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া, লহ্মীপুর জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা সদর, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ, নারিয়া ও সখীপুর উপজেলা থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের নুসরাত জাহান বিথি (২১) ও মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের লিপি বেগম (৩০) এবং সদর মহামায়া গ্রামের সৈয়দ খান (৬০) জানান, এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান ভালো। ডাক্তাররা রোগীদের যত্ন সহকারে সেবা দিচ্ছে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের জন্য ওরস্যালাইন ও ট্যাবলেট সরবরাহ করছে।
আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র মেডিসিন অফিসার ডা. ফজল খান বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং পচা, দূষিত পানি ও বাইরের খাবারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকেরা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকেন। প্রতিদিন ৫ জন ডাক্তার, ৬ জন সিনিয়র নার্স, ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারী ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-সেবায় নিয়োজিত থাকেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে ২-৩ দিন সময় লাগে। ডায়রিয়ায় শিশুর পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি এবং জ্বর থাকতে পারে। এর চিকিৎসা খুব সহজ, শিশুকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন একটি করে বেবি জিংক ট্যাবলেট এক চামচ পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়াতে হবে। তবে স্যালাইন খাওয়ানোর ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে। পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন অবশ্যই আধা লিটার পানিতে গুলে নিতে হবে।
তিনি বলেন, পানি স্বল্পতার লক্ষণসমূহ যেমন শিশু একদম নেতিয়ে যাওয়া, চোখ ডেবে যাওয়া, প্রশ্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, বুকের দুধ টেনে খেতে না পারা, ঘণ্টায় তিনবার বা তার বেশি বমি হওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত এবং খিঁচুনি হলে শিশুকে বিলম্ব না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.