চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ২৩ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন

 

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। চলতি মাসে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮জন রোগী ভর্তি ও ৩ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে চাঁদপুরে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকরা।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর স্ত্রী জানান, আমার স্বামী ঢাকায় ছিল। সেখানেই তার জ্বর ছিল। আমরা তাকে চাঁদপুরে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখানে তার জেঙ্গু জ্বর ধরা পড়েছে।
আরেক রোগী বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। সেখানে আমার জ্বর ছিল। আমার শরীরে অস্বাভাবিক যন্ত্রণার কারণে আমি চাঁদপুরের বাড়িতে আসি। এখানে এসে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করাই। পরে দেখি আমার ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। তাই আমি হাসপাতালে ভর্তি হই। মূলত আমার ঢাকা থেকে জ্বর উঠে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, চাঁদপুরের অধিকাংশ রোগীই ঢাকা থেকে আগত। ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে রোগীগুলো চাঁদপুরে আসে। ঢাকায় সংক্রমের হার বেশি। ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে চাঁদপুরে আসা রোগীর মধ্যে ৯৫ ভাগ ডেঙ্গু রোগী। আমরা এজন্য হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের মেডিসিন বিভাগে ৮ শয্যা বিশিষ্ট একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করেছি। যত রোগী আসবে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরক্ষা ও ওষুধপত্রের ব্যবস্থা আছে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. গোলাম কাউছার হিমেল বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন রোগী ভর্তি ও ৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০ জন। অক্টোবর মাসে ১৬৮ রোগী ভর্তি হয়। এর মানে হচ্ছে অক্টোবর মাসে রোাগীর সংখ্যা বেড়েছে। এখানকার রোগীরা ঝুঁকিতে আছেন। কারণ তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। তারা জ্বর হলেও পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাদের বাসার আশেপাশে জমে থাকা যে পানি জমে থাকে। এই পানির মধ্যে এডিস মশার লার্ভা বেঁচে থাকে। যার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, চাঁদপুর জেলা অন্য জেলার তুলনায় ডেঙ্গু প্রার্দুভাব একটু কমই আছে। তবে সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও কিছু রোগী ভর্তি আছে। প্রতিদিন ১২-১৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই-চার জন ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে ঢাকা থেকে জ্বরে আক্রান্তরা চাঁদপুরে নিজের বাড়িতে এসে চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলে তাদের ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ছে। তারা সবাই সুস্থ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর জন্ম ময়লা পানিতে হয় না। এদের জন্ম হয় পরিষ্কার স্বচ্ছ পানিতে। তাই ডেঙ্গু রোধে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পুরান টায়ারসহ কোথাও যাতে পানি জমতে না পারে সেদিক খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *