হাসান আলী স্কুল মাঠে জমজমাট শীতবস্ত্র বাজার

চাঁদপুর জেলা শহরে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে রাস্ত-ঘাট। কচি পাতায় জড়িয়ে রয়েছে মুক্তোর মতো শিশির বিন্দু। ঘাসের ওপরও ভোরের সূর্য কিরণে হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক দিচ্ছে শিশির। এরই মধ্যে কদর বাড়তে শুরু করেছে বাচ্চাদের গরম কাপড়ের। ঐতিহ্যবাহী হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটিতে ছোট ছোট ভ্যানে করে শীতের গরম পোশাক বেচা-কেনা চলছে জমজমাট।

এসব দোকান পুরুষ ক্রেতার চাইতে মহিলা ক্রেতাই বেশী দেখা যায়। এখানের অধিকাংশ ক্রেতাই হচ্ছে দিনমজুর, রিকশাওয়ালা এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। স্বল্পদামে কিনে শীত নিবারণ করেন এসব দরিদ্র মানুষ। কিছু দিনের মধ্যে জমে উঠবে চৌধুরীঘাট পুরনো গরম জামা কাপড় বিক্রির দোকানগুলো। এখানে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকা থেকে শুরু ২শ’৫০ টাকা পর্যন্ত।

খুচরা ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়াজী জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ছোট-খাটো গার্মেন্টস থেকে এসব শীতের কাপড় কিনে এই মাঠে বিক্রি করি। প্রতিদিন ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি শুরু হয়েছে নভেম্বর মাসের শেষের দিক থেকে। দিন-দিন বিক্রি বাড়ছে।

তিনি বলেন, আমাদের কেনা কোনো কোনো গাইডের ভেতর ছেঁড়া-ফাঁটা কাপড় থাকে, যা মহাজনরা ফেরত নিতে চান না। এর ফলে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। একটা গাইডে ৪/৫ প্রকার সুয়েটার, ট্রাউজার, হাফ ও ফুল হাতা গেঞ্জি, ছোট ছোট বাচ্চাদের কাপড় থাকে, যা বিভিন্ন দামে বিক্রি করতে হয়।

শহরের পৌর ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানে করে গরম কাপড় বিক্রেতা আঃ খালেক বলেন, দু-এক দিন ধরে বিকাল থেকে একটু শীত পড়ায় শিশুদের গরম জমা কাপড় বেচা-বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকার কাপড় বেচা-বিক্রি হচ্ছে।
অপর বিক্রেতা সুমন বলেন, ফুটপাতের কাপড়ের অনেক চাহিদা। শুধু নিম্ন আয়ের লোকজনই নয়, ধনীরাও ফুটপাত থেকে কাপড় কিনেন।
চিশতিয়া জামে মসজিদের সামনে রাস্তায় গরম কাপড় বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তিনি চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে কাপড়ের গাইড কিনে চাঁদপুরের এনে বিক্রি করেন। ভাগ্য ভালো থাকলে গাইডে অনেক ভালো জ্যাকেট, সুয়েটার পাওয়া যায়। এসব বিক্রি করে লাভও হয় ভালো। আবার অনেক সময় গাইডে ভালো কাপড় পাওয়া যায় না।

ফুটপাত থেকে কাপড় কিনতে আসা কয়েকজন নারী ক্রেতা বলেন, ফুটপাত থেকে গত বছরও শিশুদের জন্য গরম কাপড় কিনেছি। কাপড়ের মান ভালো, তাই এবছরও শিশুদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো কাপড় পাওয়া যায়।
একই কথা জানালেন বেসরকারি চাকুরীজীবী। তিনি বলেন, এখান থেকে শিশুদের জন্য ৩০ টাকায় একজোড়া মোজা কিনেছি। শপিং মল থেকে কিনলে লাগতো একশত টাকা।

এইদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গরম কাপড় বিক্রেতা সোলেমান একসময় গেঞ্জি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে গেঞ্জি ফ্যাক্টরির অবস্থা খারাপ থাকায় চাকরি ছেড়ে ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে প্রায় ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকার গরম কাপড় বিক্রি করি। ব্যবসা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি। মৌসুমী ব্যবসা করে মুনাফার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

বিভিন্ন ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুটপাতের একই মানের গরম কাপড় মার্কেটের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায়। এখানে স্বল্প আয়ের মানুষ সাধ্যের মধ্যে পছন্দমতো গরম কাপড় কিনতে পারে। শহরের বিভিন্ন শপিং মহল, মার্কেটে ক্রেতার সমাগম না থাকলেও ফুটপাতে ক্রেতার সমাগম দেখা যাচ্ছে।

এইসব ভ্রাম্যমান দোকানে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের গরম পোশাক। যার মধ্যে রয়েছে শিশুদের জিন্সের প্যান্ট, শার্ট, টাউজার, উলের পোশাক, কার্ডিগান, মাফলার ও নতুন ডিজাইনের কানটুপি। ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে গেঞ্জি-কাপড় দিয়ে তৈরি ট্রাউজার, ফুল হাতা টি-শার্ট, শীতের টুপি।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *