হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন সম্পত্তি যেন বেহাত না হয়: জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোটার চাঁদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘দেবোত্তর সম্পত্তি আইন-২০২২’ এর প্রণয়রকৃত খসড়ার উপর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ এপ্রিল সোমবার দুপুর ২টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরীর পরিচলনেয় বক্তব্য রাখেন, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদা, সাধারণ সম্পাদক (পিপি) অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি নরেন্দ্রনারায়ণ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা হরিবোলা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব রাধা গোবিন্দ গোপ, জেলা জন্মাস্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা, চাঁদপুর অযাচক আশ্রমের অধক্ষ্য স্বামী স্থিরত্নানন্দ, চাঁদপুর সদর উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাসুদেব মজুমদার, চাঁদপুর রামঠাকুর দোল মন্দির কমিটির সভাপতি পরেশ মালাকার, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি জয়রাম দাস প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক দেবোত্তর সম্পত্তি হাতছাড়া হয়েছে। আমরা চাই না, আপনাদের আর কোন সম্পত্তি বেহাত হোক। এজন্যই সরকার দেবোত্তর সম্পত্তি আইন-২০২২’ এর প্রণয়রকৃত খসড়ার উপর তৃণমূল পর্যায়থেকে মতবিনিময় সভা উদ্যেগ গ্রহণ করেছে। সরকার জনস্বার্থ এবং জাতিস্বার্থেকে বিবেচনা করেই সকল বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, যাদের জন্য আইন তারা যদি না যানে, তবে সেটি সঠিক হবে না। তাই আপনাদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছি। আপনাদের নিয়ে আলোচনা করে খসড়া প্রস্তাবনা প্রেরণ করবো। আপনাদের মতামতগুলো আমরা মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রনালয় যাচাই বাছাই করে আইনটি পাস করবে।
তিনি আরো বলেন, ধর্মটা মানুষের মঙ্গলের জন্য। তাই আমি মনে করি, যা কিছু মঙ্গলের জন্য তার সাথে আমাদের থাকা উচিত। আমাদের ধর্ম ভিন্ন হলেও আমাদের স্রষ্টা কিন্তু একজন। তাই আমরা নিজেদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি না করে নিজেদের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাবো।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যে বলের, এখনো ক্ষমতাবানরা আমাদের সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করছে। সংখ্যালঘুদের নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি করতে গিয়ে কোর্টে কি হচ্ছে সেটি আমরা দেখছি। দেবোত্তর সম্পত্তি আইন নিয়েও আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের সংখ্যালঘুদের সজাগ থাকতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের সাথে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জড়িত। সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে বলেই আমরা এই দেশটি স্বাধীন করেছিলেম।সভায় জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.